মোট প্রদর্শন : 52 Views

ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার মিথ্যাচারের বিচার চায় সম্প্রীতি বাংলাদেশ

ঢাকা,  সম্প্রীতি বাংলাদেশ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তার এই মিথ্যাচারের জন্য দেশের প্রচলিত আইনে বিচার চেয়েছে।
আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহবায়ক পীযূষ বন্দোপাধ্যায় বলেন, ‘ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার কোন মিল নেই। ৩৭ মিলিয়ন হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষ নিখোঁজ হয়েছে বলে যা বলা হয়েছে তা অবাস্তব ও বানোয়াট। সম্প্রীতি বাংলাদেশ প্রিয়া সাহার এই নির্লজ্জ মিথ্যাচারের তীব্র প্রতিবাদ জানায়।’ কাদের প্ররোচনায় কোন উদ্দেশ্যে প্রিয়া সাহা এই মিথ্যাচার করেছেন, সে বিষয়ে তিনি একটি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্য সচিব ড. মামুন আল মাহতাবের (স্বপ্নিল) পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ, একুশে টেলিভিশনের সিইও মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার, কলামিস্ট ড. রমনীমোহন দেবনাথ, বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতা মিলন ভান্তে ও করুনা ভান্তে, হিন্দু ধর্মীয় নেতা গোপাল চক্রবর্তী ও আনন্দ চন্দ্র বাউল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক ড. উত্তম বড়–য়া এবং খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতা রেভারেন্ড মার্টিন অধিকারী, উইলিয়াম প্রলয় সমাদ্দার ও বিশপ পাল এস সরকার উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, ‘প্রিয়া সাহা যা করেছেন তা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অপরাধ। আমরা মনে করি, রাষ্ট্রের দায়িত্ব তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে এদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্যে একটি প্রতিক্রিয়াশীল চক্র নানাভাবে চক্রান্ত করে আসছে। এটা তাদেরই নতুন কোন ষড়যন্ত্র কিনা তা খতিয়ে দেখা উচিত।
পীযূষ বন্দোপাধ্যায় বলেন, দেশের উন্নয়নের ধারা ব্যাহত করা এবং বাংলাদেশকে বন্ধুহীন করতে এটি একটি গভীর চক্রান্ত বলে আমরা মনে করি। তবে দেশের মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। সব ধরনের ধর্মীয় ঘৃণা ও সন্ত্রাসী আক্রমনের মোকাবেলা করার জন্য তারা ঐক্যবদ্ধ। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের শেষ ঠিকানা- শেখ হাসিনা এই চেতনা ধারণ করে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ও কিছু লক্ষ্যচ্যুত মানুষ বা সংগঠনের কারণে সারা বাংলাদেশ একটি ধর্মান্ধ রাষ্ট্রের পরিচয় বহন করে না।
প্রিয়া সাহার বক্তব্য দেশের শুভবোধসম্পন্ন সব মানুষের আবেগ ও অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষ তার এই অপকর্মের জন্য ধিক্কার জানাচ্ছে ও নিন্দা করছে। তবে প্রিয়া সাহাকে শিখন্ডি বানিয়ে কোন দুষ্টুচক্র বা স্বার্থন্বেষি মহল ঘোলাপানিতে যেন মাছ শিকার করতে না পারে সেই ব্যাপারে সকলকে সজাগ ও সংঘবদ্ধ থাকতে হবে।
পীযূষ বন্দোপাধ্যায় বলেন, প্রিয়া সাহার ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়। এই ঘটনার দায়ও সোজাসাপ্টা কথায় কেউ এড়িয়ে যেতে পারে না। সুষ্ঠু তদন্তে অবশ্যই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।(বাসস)