মোট প্রদর্শন : 123 Views

এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ : পাসের হার ৭৪ দশমিক ৭০

চলতি ২০১৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়েছে।
দেশের আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতায় অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। ১০ বোর্ডে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৮ হাজার ২৭৬ জন শিক্ষার্থী।
গত বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬৯ দশমিক ৬০ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪২ হাজার ৮৯৪ জন।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ফলাফল প্রকাশ করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের অনুলিপি হস্তান্তর করেন।
বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা এসময় শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ি, আটটি সাধারণ বোর্ড, মাদ্রাসা এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে ৮ হাজার ৩৪৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ১২ লাখ ৩ হাজার ৬৪০ জন শিক্ষার্থী এ বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৮ লাখ ৯৯ হাজার ১৫০ জন।
এর মধ্যে আট সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭২ দশমিক ৪৭ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৮ হাজার ৯৫০ জন।
মাদ্রাসা বোর্ডে পাস করেছে ৭৯ হাজার ২০জন। পাশের হার ৮৮ দশমিক ১৯ শতাংশ পরীক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৪১৪ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে।
আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এবার পাশ করেছে ৮৬ হাজার ৪৬৯ জন। পাশের হার ৮৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ। আর এখানে ৬ হাজার ৫৮৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এবার ঢাকা বোর্ডে পাশের হার ৭৩.৫৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৮ হাজার ১১০ জন ছাত্র-ছাত্রী।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাশের হার ৭৫.৪০ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬ হাজার ৭৩ জন পরীক্ষার্থী।
কুমিল্লা বোর্ডে পাশের হার ৬৪.৪৯ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৯১২ জন ছাত্র-ছাত্রী।
যশোর বোর্ডে পাশের হার ৮৩.৪২ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৫৮৬ শিক্ষার্থী।
চট্টগ্রাম বোর্ডে পাশের হার ৬৪.৬০ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ২৫৩ শিক্ষার্থী।
বরিশালে পাশের হার ৭০.১৩ এবং এই বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৮৭ শিক্ষার্থী।
সিলেট বোর্ডে পাশের হার ৬৮.৫৯ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৩৩০ শিক্ষার্থী।
দিনাজপুরে পাশের হার ৭০.৬৪ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৯৯ শিক্ষার্থী।
মাদ্রাসা বোর্ডে পাশের হার ৮৮.১৯ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৪১৪ শিক্ষার্থী।
এদিকে কারিগরি বোর্ডে পাশের হার ৮৪.৫৭ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬ হাজার ৫৮৭ শিক্ষার্থী।
অর্থাৎ ১০ বোর্ড মিলিয়ে পাশের হার ৭৪.৭০ শতাংশ এবং মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৮ হাজার ২৭৬ শিক্ষার্থী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, গতবারের তুলনায় এবার উচ্চ মাধ্যমিকে পাসের হার বেড়েছে ৫ দশমিক ১০ শতাংশ। এছাড়া জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা গতবারের চেয়ে বেড়েছে ১৫ হাজার ৩৮২ জন।
উল্লেখ্য, চলতি বছর ৩ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ২২ জুন এইচএসসির লিখিত পরীক্ষা চলে।
শিক্ষামন্ত্রী গত বছরের তুলনায় এ বছরের ফলের মান বৃদ্ধির সকল সূচকে ইতিবাচক লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে উল্লেখ করে বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী, উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী, পাসের হার, জিপিএ ৫, প্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি জানান, ১০০% অনুত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠান ও বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে।
নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এ বছরের পরীক্ষায় ছাত্রের তুলনায় ২৯,৩৩৫ জন ছাত্রী বেশি অংশগ্রহণ করেছে এবং ৭,৬২৯ জন ছাত্রী বেশি উত্তীর্ণ হয়েছে। ছাত্রের তুলনায় ২,৭১% ছাত্রী বেশি উত্তীর্ণ হয়েছে।
মন্ত্রী ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষা পরিবারের সকলকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান।
তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ উল্লেখ করে বলেন, প্রতিবারের মত এবারও সম্পূর্ণ পেপারলেস ফল প্রকাশিত হচ্ছে। বোর্ড কর্তৃক সরবরাহকৃত প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ই-মেইল ঠিকানায় নির্ধারিত সময়ে ফল পৌঁছে গেছে। তাছাড়া এসএমএস ও শিক্ষা বোর্ডসমূহের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অন-লাইনে ফল পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের ফল ডাউনলোড করে প্রিন্ট করতে পারবে।
নুরুল ইসলাম নাহিদ পরীক্ষায় কৃতকার্য সকল পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকবৃন্দকে অভিনন্দন। একই সঙ্গে তিনি যারা উত্তীর্ণ হতে পারেনি তাদের হতাশ হওয়ার কারণ নেই উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি আশা করবো তারা নব উদ্যমে পূর্ণ প্রস্তুতিতে আগামীতে আবার পরীক্ষা দিয়ে সফলকাম হবে।’(বাসস)