মোট প্রদর্শন : 32 Views

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার কোরআন শিক্ষার মক্তব

মোঃ ছায়েদ হোসেন, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলাই কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে কোরআন শিক্ষার মক্তব। আগের মত এখন আর কঁচিকাঁচা শিশুদের কোরআন শিক্ষার জন্য মক্তবে যেতে দেখা যায় না। কালিমা, অজুর নিয়ত, আর আলিফ, বা, তা আর নামাজের শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেনা জনপদ। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ছিল কোরআন শুদ্ধ করে জানে এমন একটি মেয়েই হবে ঘরনী। যাতে বাড়ীঘর কোরআনের শব্দে বরকতময় হয়ে উঠে। এখন সেই ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে মুসলিম এই রাষ্ট্র থেকে মক্তব আরবি শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ পাঠশালা বা বিদ্যালয়। শিশুদের কোরআন শিক্ষার এবং ইসলাম সম্পর্কে প্রাথমিক মৌল জ্ঞানার্জনের উত্তম শিক্ষা কেন্দ্র হলো এ কোরআনি মক্তব। এখান থেকে শিশুরা কোরআনের তেলাওয়াত শেখার পাশাপাশি নামাজ-রোজার নিয়ম কানুন, জরুরি মাসআলা-মাসায়িল,দোয়া-কালাম ইত্যাদি শিখতে পারে। কিন্তু এমন পাঠশালা থেকে এখন আর অবধারিত রোজ সকালে কোরআনের আওয়াজ কঁচিকাঁচা শিশুদের কন্ঠ থেকে বের হয় না। শিশুদের অভিবাবকদের অবহেলার কারনে মসজিদের ইমাম সাহেবরা এখন মক্তবে কোরআন পড়ানোর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। যার কারনে এলাকার শিশু কিশোররা কোরআন শিক্ষা থেকে বিতারিত হচ্ছে। রামগঞ্জ শহর ও ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কোথাও মক্তবগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এমনিতেই বন্ধ হয়ে গেছে। আবার কোথাও কোথাও যাও চালু আছে, সেগুলোতেও আগের মতো জৌলুস নেই। শিশুদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। নামে মাত্র চলে এসব কোরআন শিক্ষার পাঠশালা। কয়েকজন ইমাম সাহেবের সাথে মক্তবের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে এখন অভিবাবকেরা কঁচিকাঁচা শিশুদের মক্তবে পাঠাতে চান না। বেশিরভাগ শিশুরা সকালে ঘুম থেকে উঠেই স্কুলে কোচিং অথবা কিন্ডার গার্টেনে ক্লাসের সময় হয়ে যায়। এভাবে চলতে থাকলে ইসলামী বুনিয়াদি শিক্ষার এ অবারিত ও ঐতিহ্যগত প্রতিষ্ঠান চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে পরিণত হতে পারে অতীত ইতিহাস। কালের পরিবর্তনে মক্তব হারিয়ে গেলেও রামগঞ্জ শহর ও ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় এখনো কিছু মক্তব চোখে পড়ে। সরজমিনে ঘুরে দেখাগেছে এখনো উপজেলা উল্লেখ যোগ্য কয়েটি ইউনিয়নে গ্রাম অঞ্চলে মসজিদে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের বারান্দায় মাত্র কয়েকজন কঁচিকাঁচা শিশু কোরআন পাঠে ব্যস্থ। অথচ এক সময় এই মসজিদগুলোতে দৈনিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিলো প্রায় অর্ধ শতাধিক। এমনটাই জানালেন মসজিদ কমিটির সদস্য ও ইমাম সাহেবরা। হুজুরদের নিকট মক্তবের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে এখন অভিভাবকেরা কঁচিকাঁচা শিশুদের মক্তবে পাঠাতে চান না। তারপরও মসজিদ কমিটির আগ্রহে এখনো এই মক্তব গুলো রয়েছে বলে জানান। এর আগে দেশের প্রতিটি মুসলিম জাতিকে ধর্মীয় শিক্ষা দিতে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গন শিক্ষা চালু করেন। বর্তমানে দেশের প্রতিটি উপজেলার কিছু কিছু ইউনিয়নে এমন ফাউন্ডেশন রয়েছে। যদিও তিন স্থরে, অর্থাৎ প্রাক প্রাথমিক, বয়স্ক ও কুরআন শিক্ষা চালু করলেও কিছু কিছু শিশুরা এই ফাউন্ডেশনে পড়তে আসে। সেই অনুসারে সরকারীভাবে চলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গন শিক্ষা। তারই একটি ফাউন্ডেশন রামগঞ্জ উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শিক্ষকে কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বর্তমানে মক্তব কার্যক্রম প্রায় বিলুপ্তির পথে। অনিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন কিন্ডার গার্টেন এ শিশুদের শিক্ষাদানের কারনে মক্তব হারিয়ে যাওয়ার একমাত্র কারন বলে তিনি মনে করেন। কিন্তু এমন ফাউন্ডেশন যদি জেলার সবকটি এলাকায় থাকতো তাহলে প্রতিটি শিশুর মধ্যেই ছড়িয়ে দেয়া যেতো ধর্মীয় জ্ঞান।