মোট প্রদর্শন : 241 Views

গুলশানে হামলাকারীদের একজন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও স্বরাষ্ট্র সচিব প্রয়াত সাফিউর রহমানের ছেলে। –

গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারির আশেপাশের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করার পর প্রথম একজনকে সনাক্ত করা হয়েছে। তার পরিবারের স্বজনেরা এবং বন্ধুরা জানিয়েছেন তার নাম তাহমিদ রহমান সাফি।

গুলশানে হামলার আগের কিছু ভিডিও ফুটেজ র‌্যাবের পক্ষ থেকে মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়। এরপর সেই ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হয়ে যায়। তাহমিদের বড় ভাই শাহরুখ সাফি জানায়, গত ২৩শে এপ্রিল স্ত্রীর সাথে হানিমুনের কথা বলে ১০ দিনের জন্য তিনি মালয়েশিয়াতে পাড়ি জমান। এরপর ১৫ দিন পর্যন্ত তার কোন খোঁজ না পেয়ে খবর নিলে জানা যায়, তিনি তুরস্কের ইস্তানবুলে গিয়েছেন।

৩০ বছর বয়সী তাহমিদ সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও স্বরাষ্ট্র সচিব প্রয়াত সাফিউর রহমানের ছেলে।

তাহমিদকে সনাক্ত করার পর খিলখেতের সাব ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ কামালের সাথে শাহরুখের কথা হয়েছে। ডেইলি স্টারের বরাতে জানা যায়, শাহরুখ মিডিয়ার সাথে এই ব্যাপারে কোন কথা বলবেনা। কারণ তারা এই বিষয়ে পুলিশকে সকল তথ্য দিয়েছেন।

ছোটকাল থেকে তাহমিদ গান পছন্দ করতেন। সে সবসময় গানবাজনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। ক্লোজ আপ সেরা কণ্ঠের সেরা ১৫ জনের মাঝেও তার নাম এসেছিল। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে তার পছন্দের মেয়ের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে দেয়া হয়। এপ্রিল মাসে তারা পরিবারকে জানায় যে, তারা হানিমুনের জন্য মালয়েশিয়া যেতে চান। এরপর তারা পরিবারকে জানিয়ে ১০ দিনের জন্য মালয়েশিয়া যান।

তার স্ত্রী সায়মা পরিবারের সাথে নিকেতনে বসবাস করতেন। মালয়েশিয়া যাবার পর কিছুদিন তারা পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখে। কিন্তু ১৫ দিন হয়ে গেলে তাদের ট্র্যাভেল এজেন্ট এর সাথে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, তারা মালয়েশিয়া যায়নি। তারা প্রথম থেকেই তুরস্কে অবস্থান করছে।

এরপর তাহমিদ মাঝে মাঝে তার মাকে মেসেজ পাঠাতেন। তারা সেখানে কিভাবে বাস করছে জিজ্ঞেস করলে বলা হত, ‘আমরা একটি ছোট কক্ষে থাকি। রান্না করি ও মেঝেতে ঘুমাই। বাঁচার জন্য এর থেকে বেশি কিছু প্রয়োজন নেই।’

সে কেমন আছে কি করছে জানতে চাইলে শুধু একটা কথাই বলত যে, সে ভাল আছে। এ বছরের মে মাসের ৩১ তারিখে তাদের ঘরে একটি মেয়ের জন্ম হয়। সে ফোন করে তার পরিবারকে এই খুশির খবর জানিয়েছেন।

তাহমিদের দুই বন্ধু জানান, সে ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। সে সম্পূর্ণ বৃত্তি পেয়ে বিনা খরচে সেখানে পড়াশুনা করেছেন। ২০০৭ সালে তিনি স্নাতক পাশ করে প্রায় ৫ বছর ধরে একটি মোবাইল কোম্পানিতে চাকরী করেন।

২০১১ সালে প্রেম ভাঙ্গনের পর থেকে সে বদলে যায়। এরপর তিনি মানুষের সাথে কথা বলা কমিয়ে দেয়। সে কিছুদিন নেশার জগতেও ছিলেন বলে তার পরিবারের সকলে মনে করেন। ২০১২ সালের শেষে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন এবং কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা শুরু করেন।