মোট প্রদর্শন : 183 Views

রামগঞ্জে বিকল্প সড়ক বন্ধ করে ব্রীজ নির্মান হুমকির মুখে বেড়িবাঁধ॥

রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি ঃ
জেলার রামগঞ্জ উপজেলার খলিফা দরজার রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ-ঢাকা আঞ্চলিক মহা-সড়কের বিকল্প সড়ক (মাত্র আধা কিলোমিটার) বন্ধ করে দিয়ে ব্রীজের নির্মান কাজ অব্যাহত রেখেছে ব্রীজ নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান। ফলে বিকল্প সড়ক হিসাবে প্রায় দুই কিলোমিটার দুরুত্বের কাটাখালি-চৌধুরী বাজারের গ্রামীন সরু সড়ক (বেড়িবাঁধ) ব্যবহার করায় সড়কের ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত দেখা দিয়েছে ভয়াবহ গর্ত ও ভাঙ্গন। এতে করে ওয়াপদা বেড়িবাঁধের ভিতরের লক্ষ লক্ষ মানুষ আতঙ্কিত অবস্থায় রয়েছেন। ভরা বর্ষায় বেড়িবাঁধের কোথাও ফাটল দেখা দিলে তা রোধ করা মুশকিল হয়ে পড়বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। মুহুর্তের মাঝে তলিয়ে যাবে লক্ষ লক্ষ একর জমি ও বেড়িবাঁধের ভিতরে বসবাস করা কয়েক হাজার জনবসতি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বছরের শেষ নাগাদ রামগঞ্জ উপজেলার রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জÑঢাকার আঞ্চলিক সড়কের (১নম্বর কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের) খলিফা দরজা নামক স্থানে লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ (রোডস এন্ড হাইওয়ে) থেকে প্রায় ৪ কোটি ৩৮লক্ষ টাকার টেন্ডার পেয়ে ব্রীজ নির্মানের কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ওয়াহিদুল করীম ফার্ম। টেন্ডার হওয়ার পর বিভিন্ন অজুহাতে কালক্ষেপন করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ওয়াহিদুল করীম ফার্ম চলতি বছরের রমজান মাসে অত্যান্ত ধীর গতিতে কাজ শুরু করে।
নির্মানাধীন ব্রীজ সংলগ্ন পূর্বের তৈরি বেইলী ব্রীজটি দিয়ে উক্ত সড়কে প্রতিদিন উক্ত সড়কে শত শত গাড়ী যাতায়াত অব্যাহত থাকলেও হটাৎ করে গত মঙ্গলবার বিকালে বেইলী ব্রীজটি বন্ধ করে দিয়ে রামগঞ্জ উপজেলাব্যপি মাইকিং করে আগামী ১৮ আগষ্ট পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে।
এক প্রকার বাধ্য হয়ে ছোট ছোট যানবাহন পাশ্ববর্তি কাটাখালি হয়ে কাঞ্চনপুর-চৌধুরী বাজার বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে নির্মিত সরু সড়কটি ব্যবহারের ফলে বেড়িবাঁধের বেশ কয়েকটি স্থানে দেখা দিয়েছে বিশাল বিশাল গর্ত। মুদি মালামালসহ আখ বোঝাই কয়েকটি ট্রাক সড়কটিতে চলতে গিয়ে দূর্ঘটনায় পতিত হলে মাত্র আধা কিলোমিটার রাস্তার জন্য প্রায় ৮০ কিলোমিটার দুরুত্বের হাজীগঞ্জ-লাকসাম-সোনাইমুড়ি দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়াও উক্ত সড়কে যাতায়াতকারী লোকজনদেরও গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।
এব্যপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক মোঃ ওয়াহীদুল করীম জানান, মাত্র এক সপ্তাহ কষ্ট করলেই হবে। বড় বড় গাড়ী চলাচলের কারনে যে কোন মুহুর্তে বেইলী ব্রীজটি ধ্বসে পড়ার আশঙ্কায় শহরব্যপি প্রচারনা চালানো হয়েছে। আগামী ১৮ আগষ্ট বিকল্প সড়ক খুলে দেয়া হবে।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু ইউসূফ জানান, আমি কথা বলছি এবং দ্রুত বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। বেইলী ব্রীজ দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করতে পারি কি না দেখি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের রামগঞ্জ উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও লক্ষ্মীপুর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবদুর রহিম জানান, বেইলী ব্রিজটি দিয়ে ৫টনের অতিরিক্ত গাড়ী চলাচলের কারনে যে কোন সময়ে বিপদ হতে পারে। তাছাড়া বিকল্প হিসাবে আমরা পাশ্ববর্তি কাটাখালি-কাঞ্চনপুর-চৌধুরী বাজার (ওয়াপদা বেড়ি বাঁধ) সড়ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে স্থানীয়দের।