মোট প্রদর্শন : 230 Views

রবি-এয়ারটেল একীভূতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন

রবি-এয়ারটেল একীভূত করার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলেও এখনও আরেকটি ধাপ বাকি রয়েছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে দুই অপারেটর আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে আদালতেই। যদিও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, শিগগিরই টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে বিটিআরসির কাছে পাঠানো হবে এবং এরপরই কমিশন নির্দেশনা জারি করবে।

জানা গেছে, গত ১৩ জুলাই সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের বৈঠকে একীভূতের জন্য মার্জার ফি ১০০ কোটি টাকা এবং স্পেকট্রামের জন্য ১৩৮ কোটি টাকাসহ মোট ২৩৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা একীভূতের আগেই পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।

যদিও রবি-এয়ারটেল একীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ফি নির্ধারণ করা হবে কিনা সে ব্যাপারে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছিল না। এ নিয়ে গুঞ্জন উঠলে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, রবি-এয়ারটেল একীভূত হতে ফিস প্রস্তাব করা হয়নি। দুই অপারেটর একীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনুকরণীয় রীতি-রেওয়াজ অনুসরণ করা হচ্ছে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৯ মে এ জন্য তরঙ্গ ও মার্জার ফি বাবদ ৭৭৩ কোটি টাকা ফি প্রস্তাবনা টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয় বিটিআরসি। এর মধ্যে তরঙ্গ একীভূত ফি হিসেবে ৫৭৩ কোটি টাকা এবং মার্জার ফি হিসেবে ২০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।

২০০৫ সালে ওয়ারিদ টেলিকম (পরবর্তী সময় এয়ারটেল) ১৮০০ মেগাহার্টজ অর্থাৎ টুজি ব্যান্ডে ১৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কিনতে ব্যয় করেছিল ৩৪০ কোটি টাকা। ১৫ বছরের জন্য বরাদ্দ পাওয়া এ তরঙ্গের জন্য প্রতি মেগাহার্টজে ওয়ারিদের খরচ হয় ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। অন্যদিকে ২০১১ সালে রবি আজিয়াটা টুজি তরঙ্গের লাইসেন্স নবায়নের সময় প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের জন্য ব্যয় করেছিল ১০ কোটি টাকা। প্রতি মেগাহার্টজ টুজি তরঙ্গের জন্য রবিকে বেশি দিতে হয় ৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

এরই পিরিপ্রেক্ষিতে মার্জার ফি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে ১০ মে আজিয়াটা গ্রুপ বারহাদের গ্রুপ প্রধান নির্বাহী ও প্রেসিডেন্ট জামাল উদ্দিন ইব্রাহিমের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে লেখা হয়, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে আমরা জানতে পেরেছি, একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সরকার ৭০০ কোটি টাকার বেশি নেয়ার প্রস্তাব করেছে। আমরা বলতে চাই, সরকার যদি এই অর্থ আদায় করে তাহলে প্রস্তাবিত এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসব।’